বাংলাদেশীদের জন্য আর্মেনিয়ান ভিসা: একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা

আর্মেনিয়া, ককেশাস অঞ্চলের একটি সুন্দর দেশ, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসার প্রয়োজন হয়। এই নির্দেশিকায়, আমরা আর্মেনিয়ান ভিসার বিভিন্ন ক্যাটাগরি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ই-ভিসা সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।

কোন কোন ক্যাটাগরিতে আর্মেনিয়ান ভিজিটর ভিসা ইস্যু হয়?

আর্মেনিয়া বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসা ইস্যু করে থাকে। বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য যেসকল প্রধান ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু হতে পারে, সেগুলো হলো:

  1. ভিজিটর ভিসা (Visitor Visa): এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ভিসা যা পর্যটন, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, ব্যবসা, চিকিৎসা বা স্বল্পমেয়াদী অন্যান্য উদ্দেশ্যে জারি করা হয়। এই ভিসা সাধারণত সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে এবং ২১, ৬০ বা ১২০ দিনের থাকার অনুমতি দিতে পারে, যার মেয়াদ ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
    • পর্যটন ভিসা (Tourist Visa): এটি ভিজিটর ভিসার একটি উপ-ক্যাটাগরি, যা শুধুমাত্র পর্যটন এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
    • ব্যবসায়িক ভিসা (Business Visa): ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আর্মেনিয়া ভ্রমণের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়। এর জন্য সাধারণত আর্মেনিয়ান কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন হয়।
  2. ট্রানজিট ভিসা (Transit Visa): যদি আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য আর্মেনিয়া না হয় এবং আপনি আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে অন্য কোনো দেশে যেতে চান, তাহলে ট্রানজিট ভিসা প্রয়োজন হবে। এটি সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৩ দিনের থাকার অনুমতি দেয়, যা আরও ৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
  3. অফিসিয়াল ভিসা (Official Visa): সরকারি বা দাপ্তরিক কাজে আর্মেনিয়া ভ্রমণের জন্য এটি ইস্যু করা হয়। এর মেয়াদ সাধারণত ১ বা ৩ বছর হতে পারে।
  4. ডিপ্লোম্যাটিক ভিসা (Diplomatic Visa): কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই ভিসা ইস্যু করা হয়। এর মেয়াদ সাধারণত ১ বা ৩ বছর হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। কাজের জন্য আলাদা ওয়ার্ক ভিসা প্রয়োজন।

সাধারণ টুরিস্ট ভিসা আবেদনে কি কি ডকুমেন্টস লাগে?

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ান টুরিস্ট ভিসার আবেদন করার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত ডকুমেন্টসগুলির প্রয়োজন হয়:

  1. বৈধ পাসপোর্ট: পাসপোর্টের মেয়াদ আর্মেনিয়ায় প্রত্যাশিত থাকার তারিখের পর কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে এবং এতে কমপক্ষে একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের সকল তথ্য পৃষ্ঠার ফটোকপি প্রয়োজন।
  2. ভিসা আবেদনপত্র: সঠিকভাবে পূরণ করা এবং স্বাক্ষরিত ভিসা আবেদনপত্র।
  3. ছবি: সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (৩৫মিমি x ৪৫মিমি), সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বর্ডার ছাড়া।
  4. আমন্ত্রণপত্র (যদি থাকে): যদি আপনি আর্মেনিয়ার কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার আমন্ত্রণে ভ্রমণ করেন, তাহলে একটি আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। এই আমন্ত্রণপত্রটি আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। তবে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য এটি সবসময় বাধ্যতামূলক নয়।
  5. হোটেল রিজার্ভেশন/আবাসনের প্রমাণ: আর্মেনিয়ায় আপনার থাকার জায়গার নিশ্চিত বুকিংয়ের প্রমাণ।
  6. ফেরত বা onward টিকিটের প্রমাণ: আর্মেনিয়া থেকে আপনার ফেরত বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিটের নিশ্চিত বুকিংয়ের প্রমাণ।
  7. আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ: আর্মেনিয়ায় আপনার থাকার সময়কালের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল থাকার প্রমাণ। এটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট বা অন্যান্য আর্থিক দলিল হতে পারে।
  8. ভ্রমণ বীমা: আর্মেনিয়ায় আপনার থাকার পুরো সময়ের জন্য একটি বৈধ স্বাস্থ্য/ভ্রমণ বীমা।
  9. ভ্রমণ পরিকল্পনা (Travel Itinerary): আপনার বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা, যেমন - কোন শহরগুলি ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন ইত্যাদি।
  10. পেশাগত প্রমাণ (যদি প্রযোজ্য হয়): চাকুরিজীবীদের জন্য NOC (No Objection Certificate), ব্যবসায়ী/ব্যবসায়িক স্বত্বের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড/প্রত্যায়নপত্র ইত্যাদি।
  11. অন্যান্য সহায়ক নথি: যেমন – ম্যারেজ সার্টিফিকেট (যদি স্বামী/স্ত্রী সহ আবেদন করেন), জন্ম সনদ (শিশুদের জন্য) ইত্যাদি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সমস্ত ডকুমেন্ট ইংরেজিতে হতে হবে। যদি কোনো ডকুমেন্ট বাংলায় থাকে, তাহলে তা ইংরেজি অনুবাদ করে নোটারি করতে হবে।

কিভাবে এবং কোথায় আবেদন পত্র সাবমিশন করতে হয়?

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আর্মেনিয়ার কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশী নাগরিকদের আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদন সাধারণত ভারতে অবস্থিত আর্মেনিয়ার দূতাবাস, নিউ দিল্লি-তে জমা দিতে হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া:

  1. আবেদনপত্র ডাউনলোড ও পূরণ: আর্মেনিয়ান দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে ভিসা আবেদনপত্র ডাউনলোড করে নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
  2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ: উপরে উল্লিখিত সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন এবং নিশ্চিত করুন যে সেগুলি সম্পূর্ণ ও সঠিক আছে।
  3. ভিসা ফি পরিশোধ: আর্মেনিয়ান ভিসার ফি সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার আগেই অনলাইনে ব্যাংক ট্রান্সফার বা অন্যান্য অনুমোদিত মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফি ভিন্ন হতে পারে।
  4. আমন্ত্রণপত্র (যদি প্রয়োজন হয়): কিছু ভিসার জন্য আর্মেনিয়া থেকে একটি আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন হতে পারে, যা আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত। যদি আপনার আমন্ত্রণপত্রের প্রয়োজন হয়, তাহলে নিশ্চিত করুন যে এটি প্রস্তুত আছে।
  5. আবেদন জমা দেওয়া: যেহেতু বাংলাদেশে আর্মেনিয়ান দূতাবাস নেই, তাই আপনাকে নিম্নলিখিত উপায়ে আবেদন জমা দিতে হতে পারে:
    • ট্র্যাভেল এজেন্সি/ভিসা কনসালটেন্সির মাধ্যমে: বাংলাদেশে অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি বা ভিসা কনসালটেন্সি ফার্ম আছে যারা দিল্লিস্থ আর্মেনিয়ান দূতাবাসে আপনার পক্ষে ভিসা আবেদন জমা দিতে সহায়তা করে। এটি বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। তারা আপনার কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিউ দিল্লিতে পাঠাবে এবং ভিসা প্রক্রিয়া করবে। এক্ষেত্রে, আপনাকে এজেন্সির সার্ভিস ফি দিতে হবে।
    • ব্যক্তিগতভাবে (যদি সম্ভব হয়): যদি আপনি ব্যক্তিগতভাবে নিউ দিল্লিতে গিয়ে আবেদন জমা দিতে চান, তাহলে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে।
  6. ভিসার সিদ্ধান্ত ও পাসপোর্ট সংগ্রহ: ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, দূতাবাস আপনাকে ভিসা সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করবে। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনি আপনার পাসপোর্ট দূতাবাস বা এজেন্সির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন।

সময়কাল: আর্মেনিয়ান ভিসার প্রক্রিয়াকরণে সাধারণত ১০ থেকে ২০ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। তবে এটি ভিসার ধরন এবং দূতাবাসের কাজের চাপের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

সাধারণ টুরিস্ট ভিসা ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর কি কি ভিসা ইস্যু হয় এই ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত

সাধারণ টুরিস্ট ভিসা ছাড়াও আর্মেনিয়াতে বিভিন্ন ধরনের ভিসা ইস্যু করা হয় যা উপরে "কোন কোন ক্যাটাগরিতে আর্মেনিয়ান ভিজিটর ভিসা ইস্যু হয়" অংশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্ষেপে, এগুলি হল:

  • বিজনেস ভিসা (Business Visa): ব্যবসার উদ্দেশ্য, যেমন মিটিং, কনফারেন্স, চুক্তি স্বাক্ষর ইত্যাদির জন্য। এর জন্য আর্মেনিয়ান কোনো সংস্থা থেকে আমন্ত্রণপত্র জরুরি।
  • ট্রানজিট ভিসা (Transit Visa): আর্মেনিয়া হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য। সর্বোচ্চ ৩ দিনের জন্য ইস্যু হয়।
  • অফিসিয়াল ভিসা (Official Visa): সরকারি বা দাপ্তরিক প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ভ্রমণের জন্য।
  • ডিপ্লোম্যাটিক ভিসা (Diplomatic Visa): কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য।
  • স্টাডি ভিসা (Study Visa): আর্মেনিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য। এর জন্য আর্মেনিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির নিশ্চিতকরণ পত্র প্রয়োজন।
  • ওয়ার্ক ভিসা (Work Visa): আর্মেনিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য। এর জন্য আর্মেনিয়ান নিয়োগকর্তা থেকে চাকরির প্রস্তাব এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের প্রয়োজন।
  • ফ্যামিলি রিউনিয়ন ভিসা (Family Reunion Visa): আর্মেনিয়ায় বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগদানের জন্য।

এই প্রতিটি ভিসার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রমাণ করার জন্য আলাদা আলাদা কাগজপত্র এবং শর্তাবলী প্রযোজ্য হয়। আবেদন করার আগে আর্মেনিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নিকটস্থ দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশীদের জন্য কি ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক্স ভিসা ইস্যু হয়?

দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ার ই-ভিসা (e-Visa) বা ইলেকট্রনিক্স ভিসা বর্তমানে ইস্যু হয় না। ভিসা অন অ্যারাইভাল বা আগমনী ভিসা'র সুবিধাও বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ নেই। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া ভ্রমণের জন্য অবশ্যই দূতাবাসের মাধ্যমে স্টিকার ভিসা (পেপার ভিসা) আবেদন করতে হয়।

আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং স্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

কিভাবে সাবমিশন করতে হয়?

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদনপত্র সরাসরি আর্মেনিয়ার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে জমা দিতে হয়, যা বাংলাদেশে নেই। তাই, আবেদন জমা দেওয়ার প্রধান উপায়গুলি হলো:

  1. ট্র্যাভেল এজেন্সি বা ভিসা কনসালটেন্সির মাধ্যমে:
    • সুবিধা: এটি বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং প্রচলিত পদ্ধতি। অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি বা ভিসা কনসালটেন্সি ফার্ম (যেমন, Sticker Visa, VISAThing) আছে যারা আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে।
    • প্রক্রিয়া:
      • আপনি এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন।
      • এজেন্সি আপনার পক্ষ থেকে আবেদনপত্র পূরণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি সংগ্রহ করবে।
      • তারা আপনার সকল ডকুমেন্ট এবং পাসপোর্ট ভারতে অবস্থিত আর্মেনিয়ার দূতাবাসে (সাধারণত নিউ দিল্লিতে) পাঠাবে।
      • এজেন্সি ভিসার ফি পরিশোধের বিষয়ে আপনাকে নির্দেশনা দেবে অথবা তাদের মাধ্যমে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।
      • ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, এজেন্সি আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা সংগ্রহ করে আপনাকে ফেরত দেবে।
    • গুরুত্বপূর্ণ: এজেন্সির সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তাদের সার্ভিস চার্জ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  2. ব্যক্তিগতভাবে (যদি সম্ভব হয়):
    • যদি আপনি ব্যক্তিগতভাবে ভারতে গিয়ে আবেদন জমা দিতে চান, তাহলে আপনাকে নিউ দিল্লিতে অবস্থিত আর্মেনিয়ার দূতাবাসে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
    • প্রক্রিয়া:
      • দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করুন।
      • সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন।
      • দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করুন।
      • নির্ধারিত তারিখে সকল মূল ডকুমেন্ট ও ফটোকপি সহ দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন।
      • ভিসা ফি দূতাবাসে পরিশোধ করুন।
      • ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
    • গুরুত্বপূর্ণ: এই পদ্ধতিতে ভারতে ভ্রমণ এবং থাকার খরচ যোগ হবে, যা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনের চেয়ে বেশি হতে পারে।

কোথায় আবেদন পত্র সাবমিশন করতে হয়?

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদনপত্র নিম্নলিখিত স্থানে সাবমিশন করতে হয়:

  • আর্মেনিয়ার দূতাবাস, নিউ দিল্লি, ভারত (Embassy of Armenia in New Delhi, India):
    • বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়ার ভিসার জন্য এটিই একমাত্র অনুমোদিত কূটনৈতিক মিশন।
    • যেহেতু বাংলাদেশে আর্মেনিয়ার কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই, তাই সকল আবেদনপত্র এই দূতাবাসে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

ঠিকানা (সাধারণত): Embassy of the Republic of Armenia D-133, Anand Niketan, New Delhi - 110021, India

যোগাযোগ: আবেদন করার আগে দূতাবাসের ওয়েবসাইট ভিজিট করে অথবা ফোন করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সংক্ষেপে: বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ান ভিসার আবেদনপত্র সরাসরি বাংলাদেশে জমা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আপনাকে হয় কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভারতে অবস্থিত আর্মেনিয়ান দূতাবাসে আবেদন পাঠাতে হবে, অথবা ব্যক্তিগতভাবে নিউ দিল্লিতে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।

 

যদি বাংলাদেশীদের জন্য ই-ভিসা ইস্যু না হয় তাহলে কোন কোন দেশের জন্য এই ভিসা ইস্যু হয়?

আর্মেনিয়া একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক দেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে থাকে। এই দেশগুলির তালিকা পরিবর্তন হতে পারে, তবে সাধারণত ই-ভিসার জন্য যোগ্য কিছু দেশগুলির মধ্যে রয়েছে (তবে এই তালিকা সম্পূর্ণ নাও হতে পারে, সর্বশেষ তথ্যের জন্য আর্মেনিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখা উচিত):

  • আলজেরিয়া (Algeria)
  • বাহরাইন (Bahrain)
  • বেলিজ (Belize)
  • ভুটান (Bhutan)
  • বলিভিয়া (Bolivia)
  • ব্রুনাই (Brunei)
  • কম্বোডিয়া (Cambodia)
  • চিলি (Chile) (শর্তসাপেক্ষ)
  • কলম্বিয়া (Colombia)
  • কোস্টারিকা (Costa Rica)
  • কিউবা (Cuba)
  • ডোমিনিকা (Dominica)
  • ডোমিনিকান রিপাবলিক (Dominican Republic)
  • ইকুয়েডর (Ecuador)
  • মিশর (Egypt)
  • এল সালভাদর (El Salvador)
  • ফিজি (Fiji)
  • গ্রেনাডা (Grenada)
  • গুয়াতেমালা (Guatemala)
  • গায়ানা (Guyana)
  • হাইতি (Haiti)
  • হন্ডুরাস (Honduras)
  • ভারত (India)
  • ইন্দোনেশিয়া (Indonesia)
  • ইরাক (Iraq)
  • জ্যামাইকা (Jamaica)
  • জর্ডান (Jordan)
  • কেনিয়া (Kenya)
  • কুয়েত (Kuwait)
  • লাওস (Laos)
  • লেবানন (Lebanon)
  • মালদ্বীপ (Maldives)
  • মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ (Marshall Islands)
  • মেক্সিকো (Mexico)
  • মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia)
  • মঙ্গোলিয়া (Mongolia)
  • মরক্কো (Morocco)
  • মায়ানমার (Myanmar)
  • নাউরু (Nauru)
  • নেপাল (Nepal)
  • ওমান (Oman)
  • পাকিস্তান (Pakistan)
  • পালাউ (Palau)
  • পানামা (Panama)
  • পাপুয়া নিউ গিনি (Papua New Guinea)
  • পেরু (Peru)
  • ফিলিপাইন (Philippines)
  • কাতার (Qatar)
  • সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (Saint Kitts and Nevis)
  • সেন্ট লুসিয়া (Saint Lucia)
  • সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস (Saint Vincent and the Grenadines)
  • সামোয়া (Samoa)
  • সৌদি আরব (Saudi Arabia)
  • সেনেগাল (Senegal)
  • সেশেলস (Seychelles)
  • সিয়েরা লিওন (Sierra Leone)
  • সিঙ্গাপুর (Singapore)
  • দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)
  • শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)
  • সুরিনাম (Suriname)
  • তাইওয়ান (Taiwan)
  • তানজানিয়া (Tanzania)
  • থাইল্যান্ড (Thailand)
  • টিমোর-লেস্ট (Timor-Leste)
  • টোগো (Togo)
  • টোঙ্গা (Tonga)
  • ত্রিনিদাদ ও টোবাগো (Trinidad and Tobago)
  • তিউনিসিয়া (Tunisia)
  • তুর্কি (Turkey)
  • তুর্কমেনিস্তান (Turkmenistan)
  • উগান্ডা (Uganda)
  • ভানুয়াতু (Vanuatu)
  • ভিয়েতনাম (Vietnam)
  • জিম্বাবুয়ে (Zimbabwe)

এই তালিকাটি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদনের আগে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (mfa.am) সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি এই বিস্তারিত তথ্য আপনার ওয়েবসাইটে পোস্ট করার জন্য সহায়ক হবে। শুভকামনা!