জিম্বাবুয়ের মতো জাম্বিয়াও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সুন্দর দেশ। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণকেন্দ্র, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণী ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এটি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, লুসাকা শহর এবং বিস্তৃত জাতীয় উদ্যানগুলোর জন্য বিখ্যাত। দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও, এর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানুষের দৃঢ়তা এটিকে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলেছে।

জিম্বাবুয়ের মতো জাম্বিয়াও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর একটি দেশ।

জাম্বিয়ার অর্থনীতি

জাম্বিয়ার অর্থনীতি মূলত খনিজ সম্পদ, কৃষি এবং পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। দেশটি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মতো গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

খনিজ সম্পদ: কপার (Copper) জাম্বিয়ার প্রধান খনিজ সম্পদ। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কপার উৎপাদক। এছাড়াও, কোবাল্ট, কয়লা, সীসা এবং জিংক (Zinc) জাম্বিয়ার প্রধান খনিজ সম্পদ। সম্প্রতি লিথিয়াম উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

কৃষি: দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। ভুট্টা জাম্বিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং রপ্তানি পণ্য। এছাড়াও, তুলা, চিনি, চা এবং কফি উৎপাদিত হয়। খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।

পর্যটন: ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, দক্ষিণ লুয়াংওয়া ন্যাশনাল পার্ক এবং কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের মতো বিশ্বখ্যাত প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলো পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

চ্যালেঞ্জ: নীতিগত অসঙ্গতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি এবং উচ্চ পাবলিক ঋণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন এল নিনো-প্ররোচিত খরা) কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

জাম্বিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীলতার জন্য সংগ্রাম করছে।

জাম্বিয়া থেকে কী কী পণ্য রপ্তানি করা হয়?

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো হলো:

  • কপার এবং কোবাল্ট
  • তামাক এবং তামাকজাত পণ্য
  • আকরিক, স্ল্যাগ এবং ছাই
  • ফল এবং সবজি
  • চিনি

সাধারণ তথ্য

অবস্থান: জাম্বিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে কঙ্গো, পূর্বে তানজানিয়া, দক্ষিণে জিম্বাবুয়ে এবং পশ্চিমে অ্যাঙ্গোলা অবস্থিত।

আয়তন: জাম্বিয়ার মোট আয়তন প্রায় $752,618$ বর্গ কিলোমিটার ($290,587$ বর্গ মাইল)।

রাজধানী: লুসাকা (Lusaka)। এটি দেশের বৃহত্তম শহর এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

জনসংখ্যা: ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার জনসংখ্যা প্রায় $20.2$ মিলিয়ন (২ কোটি ২ লক্ষ)।

জিডিপি (GDP): ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার জিডিপি প্রায় $28.31$ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র জিডিপি)।

শিক্ষার হার: জাম্বিয়ার শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে উচ্চ। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার হার ($15$ বছর বা তার বেশি বয়সী) প্রায় $85\%$।

সরকারি ভাষা: জাম্বিয়ার সংবিধানে ৮টি সরকারি ভাষার স্বীকৃতি রয়েছে, যার মধ্যে ইংরেজি (English) প্রধান। এছাড়াও, নিয়ানজা, বেনবা এবং টোঙ্গা প্রচলিত ভাষা।

ইতিহাস (History)

জাম্বিয়ার ইতিহাস প্রাচীন সাম্রাজ্য, ঔপনিবেশিক শাসন এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের দ্বারা চিহ্নিত।

প্রাচীন সাম্রাজ্য: এই অঞ্চলে প্রাচীন লুন্ডা (Lunda), লুবা (Luba) এবং লুন্ডা সাম্রাজ্যের (Lunda Empire) কেন্দ্র ছিল। এই সাম্রাজ্যগুলো ১১শ থেকে ১৫শ শতাব্দীর মধ্যে বিকাশ লাভ করে।

ঔপনিবেশিক শাসন: ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। ১৮৯০ সালে সেসিল রোডসের (Cecil Rhodes) ব্রিটিশ সাউথ আফ্রিকা কোম্পানি (British South Africa Company) এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এটিকে "উত্তর রোডেসিয়া" (Northern Rhodesia) নামে অভিহিত করে।

স্বাধীনতার সংগ্রাম: ১৯৬০-এর দশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকানদের দ্বারা পরিচালিত স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার হয়। দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধের পর, ১৯৭৯ সালের ল্যাঙ্কাস্টার হাউস চুক্তির (Lancaster House Agreement) মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

স্বাধীনতা: ১৯৬৪ সালের ২৪শে অক্টোবর জাম্বিয়া স্বাধীনতা লাভ করে এবং কেনেথ কাউন্ডা (Kenneth Kaunda) দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী (পরে রাষ্ট্রপতি) হন। তার দীর্ঘ শাসনকাল ($1964-1991$) দেশের স্বাধীনতা ও প্রাথমিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখেছিল।

সাম্প্রতিক ইতিহাস: ১৯৯১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কেনেথ কাউন্ডা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ফ্রেডরিক চিলুবা (Frederick Chiluba) তার স্থলাভিষিক্ত হন। জাম্বিয়া বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতা অর্জনের চেষ্টা করছে।

ভূগোল (Geography)

জাম্বিয়ার ভূগোল তার মালভূমি, পর্বতমালা এবং নদীর অববাহিকা দ্বারা চিহ্নিত।

উচ্চভূমি (Highveld): দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে একটি উচ্চ মালভূমি (Highveld) রয়েছে, যার উচ্চতা $1,220$ মিটার ($4,000$ ফুট) থেকে $1,500$ মিটার ($5,000$ ফুট) পর্যন্ত। লুসাকা এবং এনডোলা (Ndola) এর মতো প্রধান শহরগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত।

মধ্যভূমি (Middleveld): এই উচ্চভূমি থেকে নিম্নভূমি (Lowveld) এর দিকে ঢালু অংশটিকে মধ্যভূমি বলা হয়।

নিম্নভূমি (Lowveld): দেশের দক্ষিণাংশ এবং জাম্বেজি ও লিম্পোপো নদীর অববাহিকা নিম্নভূমি নিয়ে গঠিত, যা উষ্ণ এবং শুষ্ক।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত (Victoria Falls): জিম্বাবুয়ে সীমান্তে অবস্থিত এই বিশাল জলপ্রপাতটি বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে একটি এবং একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

কারিব্বা হ্রদ (Lake Kariba): এটি বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদগুলোর মধ্যে একটি, যা জিম্বাবুয়ে সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

অন্যান্য নদী: জাম্বেজি নদী দেশের উত্তরের সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়েছে এবং লিম্পোপো নদী দক্ষিণের সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়েছে।

জলবায়ু (Climate)

জাম্বিয়ার জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় (Tropical), তবে উচ্চতার কারণে তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। দেশটি তিনটি প্রধান ঋতু দ্বারা চিহ্নিত।

উষ্ণ-বৃষ্টিপাত ঋতু (নভেম্বর থেকে এপ্রিল): এই সময়ে তাপমাত্রা উষ্ণ থাকে এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষ করে নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত।

শুষ্ক-শীতল ঋতু (মে থেকে আগস্ট): এটি শীতকাল এবং তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে শীতল ও শুষ্ক থাকে, বিশেষ করে রাতের বেলায়। দিনের বেলা সাধারণত রৌদ্রোজ্জ্বল এবং মনোরম হয়।

উষ্ণ-শুষ্ক ঋতু (সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর): এই সময়ে তাপমাত্রা খুব বেশি হয় এবং বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না। এটি গ্রীষ্মকালের শুরু এবং বন্যপ্রাণী দেখার জন্য আদর্শ, কারণ প্রাণীরা জলের উৎসের কাছে জড়ো হয়।

উচ্চভূমি অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে, তবে নিম্নভূমি (যেমন লিম্পোপো ভ্যালি) অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশ বেশি হতে পারে।

সরকার

জাম্বিয়া একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র (Presidential Republic)। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান, যিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি: বর্তমানে, হাকাইন্দে হিচিলেমা (Hakainde Hichilema) জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদ: জাম্বিয়ার একটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ রয়েছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (National Assembly) এবং সিনেট (Senate) অন্তর্ভুক্ত।

বিচার বিভাগ: একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে।

জাম্বিয়ার রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (UNIP) এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রয়েছে।

ধর্ম (Religion)

জাম্বিয়া একটি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, তবে ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ধর্মও প্রচলিত রয়েছে।

খ্রিস্টধর্ম: জনসংখ্যার প্রায় $85\%$ এর বেশি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। এদের মধ্যে বিভিন্ন প্রোটেস্ট্যান্ট শাখা (ইভানজেলিকাল, পেন্টেকোস্টাল) এবং রোমান ক্যাথলিক প্রধান। কিছু মানুষ আফ্রিকান স্বাধীন গীর্জা (African Independent Churches) অনুসরণ করে, যা খ্রিস্টান ধর্ম এবং ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসগুলোর মিশ্রণ।

ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ধর্ম: জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করে, যা পূর্বপুরুষদের পূজা এবং প্রকৃতির শক্তির উপর জোর দেয়। এই বিশ্বাসগুলো প্রায়শই খ্রিস্টান ধর্মের সাথে সহাবস্থান করে।

ইসলাম: একটি ছোট মুসলিম সম্প্রদায়ও রয়েছে।

উৎসব (Festivals)

জাম্বিয়াতে বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় উৎসব পালিত হয়, যা দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং আধুনিক দিককে তুলে ধরে।

  • জাম্বিয়া স্বাধীনতা দিবস: ২৪শে অক্টোবর পালিত হয়, যা ১৯৬৪ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে জাম্বিয়ার স্বাধীনতা লাভের স্মরণে। এটি একটি জাতীয় ছুটি এবং দেশব্যাপী কুচকাওয়াজ, সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়।
  • আফ্রিকা দিবস: ২৫শে মে পালিত হয়।
  • জাতীয় বীর দিবস (Heroes' Day): আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সোমবার পালিত হয়, যা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা বীরদের সম্মান জানায়।
  • প্রতিরক্ষা বাহিনী দিবস (Defense Forces' Day): আগস্ট মাসের দ্বিতীয় মঙ্গলবার পালিত হয়।
  • ইউনিটি দিবস (Unity Day): ২২শে ডিসেম্বর পালিত হয়, যা জাম্বিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (UNIP) এবং মুভমেন্ট ফর মাল্টি-পার্টি ডেমোক্রেসি (MMD) এর একীকরণের স্মরণে।
  • জাতীয় শিল্পকলা উৎসব (National Arts Festival): এটি একটি জনপ্রিয় বার্ষিক শিল্পকলা উৎসব, যা বিভিন্ন ধরণের সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক এবং শিল্পকলা প্রদর্শন করে।
  • ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা: মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বারা পালিত হয়।
  • ক্রিসমাস ও ইস্টার: খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব, যা ব্যাপকভাবে পালিত হয়।

সংস্কৃতি (Culture)

জাম্বিয়ার সংস্কৃতি প্রধানত বান্টুভাষী জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং আধুনিক জীবনধারার এক অনন্য মিশ্রণ।

  • জাতিগত বৈচিত্র্য: জাম্বিয়াতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী রয়েছে, যার মধ্যে বেনবা, টোঙ্গা, নিয়ানজা, লুন্ডা এবং লুবা বৃহত্তম।
  • ভাষা: ইংরেজি, নিয়ানজা, বেনবা এবং টোঙ্গা সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। ইংরেজি প্রায়শই ব্যবসায়, সরকার এবং গণমাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।
  • সঙ্গীত ও নৃত্য: সঙ্গীত এবং নৃত্য জাম্বিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত এবং নৃত্য বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও উৎসবে ব্যবহৃত হয়।
  • শিল্প ও কারুশিল্প: কাঠের খোদাই, পাথর ভাস্কর্য, বয়ন এবং মৃৎশিল্প জাম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের অংশ।
  • পোশাক: আধুনিক পোশাক প্রচলিত হলেও, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে রঙিন পোশাক এবং স্থানীয় কাপড় পরা হয়।
  • আতিথেয়তা: জাম্বিয়াবাসীরা তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং পারিবারিক বন্ধনের জন্য পরিচিত।

শহর (Cities)

জাম্বিয়ার প্রধান শহরগুলো হলো:

  • লুসাকা (Lusaka): জাম্বিয়ার রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। এটি দেশের প্রধান বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
  • এনডোলা (Ndola): জাম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং দেশের কপারবেল্ট অঞ্চলের প্রধান শিল্প কেন্দ্র।
  • কিটওয়ে (Kitwe): এনডোলা শহরের কাছে অবস্থিত একটি বড় আবাসিক শহর।
  • লুয়ানশিয়া (Luanshya): কপারবেল্ট অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং শিক্ষা ও শিল্পের কেন্দ্র।
  • লিভিংস্টোন (Livingstone): দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর, যা জিম্বাবুয়ে সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এর প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।
  • মুফুয়া (Mufulira): কপারবেল্ট অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং শিক্ষা ও শিল্পের কেন্দ্র।

খাদ্য (Food)

জাম্বিয়ার রন্ধনশৈলী মূলত স্থানীয় আফ্রিকান উপাদান এবং কিছু ব্রিটিশ প্রভাবের মিশ্রণ। ভুট্টা, শাকসবজি এবং মাংস এখানে প্রধান খাবার।

  • শিসামা (Shisima): এটি ভুট্টার আটা থেকে তৈরি একটি ঘন পোরিজ, যা জাম্বিয়ার জাতীয় খাবার এবং এটি বেশিরভাগ খাবারের সাথে পরিবেশন করা হয়। এটি হাত দিয়ে খাওয়া হয়।
  • ইসিফুয়া (Isifuwa): চিনাবাদামের সস দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু স্টু, যা সাধারণত মুরগি, গরুর মাংস বা শাকসবজি দিয়ে রান্না করা হয়। এটি শিসামার সাথে জনপ্রিয়।
  • ন্যামা (Nyama): গ্রিল করা মাংস (বিশেষ করে গরুর মাংস, ছাগল বা মুরগি), যা পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়।
  • উবুওয়া (Ubuwa): গরু বা ছাগলের অন্ত্র দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার।
  • মোহুয়া (Mohuwa): এটি রান্না করা সবুজ শাকসবজি, যা প্রায়শই চিনাবাদাম গুঁড়ো বা পাম তেল দিয়ে তৈরি করা হয়।

বন্যপ্রাণী (Wildlife)

জাম্বিয়া তার সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী এবং বিশাল জাতীয় উদ্যানগুলোর জন্য পরিচিত, যা সাফারি পর্যটনের জন্য চমৎকার সুযোগ প্রদান করে।

  • দক্ষিণ লুয়াংওয়া ন্যাশনাল পার্ক (South Luangwa National Park): এটি জাম্বিয়ার বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান এবং এটি হাতির বিশাল জনসংখ্যার (আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ) জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও, সিংহ, চিতাবাঘ, চিতা, জিরাফ, জেব্রা এবং বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিলোপ এখানে দেখা যায়।
  • লোয়েন-গোনা-লুয়াঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক (Lowen-Gona-Luanga National Park): এটি জাম্বেজি নদীর ধারে অবস্থিত এবং এটি একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানে হাতি, মহিষ, হিপ্পো, কুমির এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এটি ওয়াকিং সাফারি (walking safari) এর জন্য জনপ্রিয়।
  • মুনুংউই ন্যাশনাল পার্ক (Munungwi National Park): কারিব্বা হ্রদের তীরে অবস্থিত, এটি কালো গন্ডার সংরক্ষণের জন্য পরিচিত, যদিও তাদের সংখ্যা এখন খুব কম। এছাড়াও, সিংহ, হাতি এবং পাখি দেখা যায়।
  • গোনারেঝু ন্যাশনাল পার্ক (Gonarezhou National Park): দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পার্কটি তার "আওয়ার রেফুরেন" (our elephants) এর জন্য পরিচিত এবং এটি বৃহত্তর গ্রেট লিম্পোপো ট্রান্সফ্রন্টিয়ার পার্কের (Great Limpopo Transfrontier Park) অংশ।
  • বিগ ফাইভ (Big Five): জাম্বিয়ার বেশিরভাগ প্রধান জাতীয় উদ্যানে সিংহ, চিতাবাঘ, হাতি, মহিষ এবং (কিছু পরিমাণে) গন্ডার সহ "বিগ ফাইভ" দেখা যায়।
  • পাখি: জাম্বিয়াতে প্রায় $700$ প্রজাতির বেশি পাখি রয়েছে, যা পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

জাম্বিয়া সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশ-পর্যটনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যা দেশটির প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করে।