মধ্য আফ্রিকার সবুজ হৃদপিণ্ড: কঙ্গো প্রজাতন্ত্র - তেল সমৃদ্ধি, রেইনফরেস্ট ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য!

আফ্রিকা মহাদেশের মধ্য-পশ্চিম অংশে অবস্থিত কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (Republic of the Congo), যা প্রায়শই কঙ্গো-ব্রাজাভিল (Congo-Brazzaville) নামে পরিচিত, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (Democratic Republic of the Congo - DRC) বিপরীতে অবস্থিত। এই দেশটি তার ঘন রেইনফরেস্ট, কঙ্গো নদী, সামুদ্রিক উপকূলরেখা এবং তেল ও খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত। কঙ্গো প্রজাতন্ত্র তার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

 

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের অর্থনীতি

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের অর্থনীতি মূলত পেট্রোলিয়ামের উপর নির্ভরশীল। এটি মধ্য আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে।

  • পেট্রোলিয়াম: দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি এবং রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এই খাত থেকে। কঙ্গো একটি উল্লেখযোগ্য তেল উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক দেশ।
  • বনায়ন: ঐতিহ্যগতভাবে কাঠ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। যদিও তেলের উত্থান এটিকে ছাপিয়ে গেছে, তবুও বনজ সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ভূমির ৬০% এর বেশি রেইনফরেস্ট দ্বারা আবৃত, যা এটিকে আফ্রিকার অন্যতম বনাঞ্চল সমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে।
  • কৃষি: দেশের গ্রামীণ কৃষি এবং হস্তশিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাসাভা, ইয়াম, কলা, তুলা এবং কফি প্রধান কৃষি পণ্য। তবে, এই খাত এখনো সনাতন পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।
  • খনিজ সম্পদ: তেল ছাড়াও কঙ্গোতে কিছু পরিমাণে হীরা, স্বর্ণ এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ রয়েছে, তবে এগুলির উত্তোলন এখনো সীমিত।
  • অবকাঠামো: অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে, তবে বাজেট সমস্যা এবং অতিরিক্ত সরকারি কর্মী একটি চ্যালেঞ্জ।

২০১৫ সালের পর থেকে তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে, যা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে কি কি পণ্য রপ্তানি করা হয়?

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলি হলো:

  • অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য: এটি দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে মূল্যবান রপ্তানি পণ্য।
  • কাঠ: মূল্যবান কাঠের প্রজাতি।
  • কিছু পরিমাণে কৃষি পণ্য (যেমন কফি)।

 

সাধারণ তথ্য

অবস্থান: কঙ্গো প্রজাতন্ত্র মধ্য আফ্রিকার পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এর উত্তরে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও ক্যামেরুন, পূর্বে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (কঙ্গো নদী দ্বারা বিভাজিত), দক্ষিণে অ্যাঙ্গোলা (কাবিণ্ডা ছিটমহল) এবং পশ্চিমে গ্যাবন ও আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।

আয়তন: কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মোট আয়তন প্রায় 342,000 বর্গ কিলোমিটার (132,047 বর্গ মাইল)। জনসংখ্যা: ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের জনসংখ্যা প্রায় 6.1 মিলিয়ন (৬১ লক্ষ)। জিডিপি (GDP): ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের জিডিপি প্রায় 16.8 বিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র জিডিপি)। শিক্ষার হার: কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে ভালো।

 

ইতিহাস (History)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস ১৫শ শতাব্দীর শেষের দিকে পর্তুগিজ অভিযাত্রী ডিয়োগো কাও-এর (Diogo Cão) কঙ্গো নদীর মুখে আগমনের সাথে শুরু হয়। এরপর সেখানকার অভ্যন্তরীণ বান্টু সাম্রাজ্য (বিশেষত কঙ্গো সাম্রাজ্য) এবং ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই অঞ্চলটি বহু শতাব্দী ধরে ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে ফ্রান্স এই অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তার করে এবং ১৮৮০-এর দশকে একটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয়, যা ফরাসি কঙ্গো (French Congo) নামে পরিচিত ছিল। পরে এর নামকরণ করা হয় মিডল কঙ্গো (Middle Congo)। এই সময়কালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন স্থানীয় জনগণের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল এবং প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ করত।

১৯৫৮ সালের ২৮শে নভেম্বর কঙ্গো প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালের ১৫ই আগস্ট এটি ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এটি একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ছিল এবং তখন গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (People's Republic of the Congo) নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে দেশটি বহুদলীয় নির্বাচন চালু করেছে। বর্তমানে ডেনিস সাসু এনগুয়েসো (Denis Sassou Nguesso) দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন।

 

ভূগোল (Geography)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ভূ-প্রকৃতিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ল্যান্ডস্কেপ।

  • উপকূলীয় সমভূমি: আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে একটি সরু উপকূলীয় সমভূমি রয়েছে, যেখানে ক্রান্তীয় বন এবং ম্যানগ্রোভ দেখা যায়।
  • কঙ্গো অববাহিকা: দেশের বিশাল কেন্দ্রীয় অংশ কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিয়ে গঠিত, যা ঘন ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট দ্বারা আবৃত। কঙ্গো নদী দেশটির পূর্বে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সাথে সীমানা তৈরি করেছে।
  • মালভূমি: উত্তর-পশ্চিমে ক্রান্তীয় সাভানা এবং মালভূমি অঞ্চল রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে মায়োম্বে পর্বতমালা (Mayombe Mountains) অবস্থিত, যা উপকূলের সমান্তরালে চলে গেছে।
  • নদী: কঙ্গো নদী দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এছাড়াও, কৌইলো-নিয়ারি (Kouilou-Niari) এবং কঙ্গো নদীর অন্যান্য উপনদী রয়েছে।

কঙ্গো বেসিন, যেখানে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অবস্থিত, আমাজনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট।

 

জলবায়ু (Climate)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের জলবায়ু মূলত নিরক্ষীয় এবং ক্রান্তীয়, যা এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।

  • গড় তাপমাত্রা: সারা বছরই তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে উচ্চ এবং স্থির থাকে, গড়ে ২৪°C থেকে ২৭°C এর মধ্যে।
  • আর্দ্রতা: উপকূলীয় এবং রেইনফরেস্ট অঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকে।
  • ঋতু: এখানে দুটি প্রধান ঋতু দেখা যায়:
    • শুষ্ক ঋতু (মে থেকে সেপ্টেম্বর): এই সময়ে বৃষ্টিপাত কম হয় এবং তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব বায়ু "মুস্সিমবো" (Mussimbu) দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা এটিকে ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক করে তোলে।
    • বর্ষাকাল (অক্টোবর থেকে এপ্রিল): এই সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে।

ভ্রমণের সেরা সময়: শুষ্ক ঋতু (মে থেকে সেপ্টেম্বর) কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, যখন বন্যপ্রাণী দেখার এবং আউটডোর কার্যকলাপের জন্য আবহাওয়া মনোরম থাকে।

 

সরকার

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র একটি আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র। দেশের রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান, যিনি পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। ডেনিস সাসু এনগুয়েসো (Denis Sassou Nguesso) ১৯৮০-এর দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে এবং ১৯৯৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় আছেন।

দেশের আইনসভা একটি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ দ্বারা গঠিত: সিনেট (Senate / উচ্চ কক্ষ) এবং জাতীয় পরিষদ (National Assembly / নিম্ন কক্ষ)। কঙ্গো প্রজাতন্ত্র একটি বহু-দলীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করে, তবে রাষ্ট্রপতির দল, কঙ্গোলিজ পার্টি অফ লেবার (PCT), দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী।

 

ধর্ম (Religion)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র একটি বহু-ধর্মীয় দেশ, তবে খ্রিস্টধর্ম এখানে প্রধান ধর্ম।

  • খ্রিস্টধর্ম: জনসংখ্যার বেশিরভাগ (88.5%) খ্রিস্টান। এর মধ্যে রোমান ক্যাথলিক (52.9%), প্রোটেস্ট্যান্ট (35.6%), এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় (যেমন জাগ্রত লুথারান, ৪.৭%) অন্তর্ভুক্ত।
  • আদিবাসী বিশ্বাস: কিছু মানুষ ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান আদিবাসী বিশ্বাস পালন করে, যা প্রায়শই খ্রিস্টান ধর্মের সাথে মিশ্রিত হয়ে সহাবস্থান করে। এই বিশ্বাসগুলি পূর্বপুরুষ পূজা এবং আত্মাদের প্রতি শ্রদ্ধাকে কেন্দ্র করে।
  • ইসলাম: একটি সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ও রয়েছে (প্রায় ১.৬%), যাদের বেশিরভাগই শহুরে কেন্দ্রে বসবাসকারী বিদেশী শ্রমিক এবং অভিবাসী। এই সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ৬% এ উন্নীত হয়েছে।

 

উৎসব (Festivals)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় এবং জাতীয় উৎসব পালিত হয়, যা দেশটির ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

  • স্বাধীনতা দিবস: ১৫ই আগস্ট পালিত হয়, যা ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা লাভের স্মরণে। এটি একটি বড় জাতীয় ছুটি, যেখানে কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
  • জাতীয় দিবস (National Day): ২৮শে নভেম্বর পালিত হয়।
  • ক্রিসমাস ও ইস্টার: খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব, যা ব্যাপকভাবে পালিত হয়।
  • ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা: মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বারা পালিত হয়। যদিও এগুলি জাতীয় ছুটির তালিকায় নেই, তবে সম্মানিত হয়।
  • আদিবাসী সাংস্কৃতিক উৎসব: বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা তাদের সঙ্গীত, নৃত্য এবং কারুশিল্পকে উদযাপন করে।

 

সংস্কৃতি (Culture)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সংস্কৃতি তার বহু-জাতিগত জনগোষ্ঠী, ঔপনিবেশিক ফরাসি প্রভাব এবং ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির এক সমৃদ্ধ মিশ্রণ।

  • ভাষা: ফরাসি (French) হলো কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা। এছাড়াও, কিতুবা (Kituba) এবং লিঙ্গালা (Lingala) দুটি জাতীয় ভাষা, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দেশে প্রায় ৭০টিরও বেশি স্থানীয় ভাষা প্রচলিত।
  • জাতিগোষ্ঠী: কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৭৫টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে, যার মধ্যে কঙ্গো (Kongo), সাঙ্গো (Sanga), তেঁকে (Téké), ম'বোচি (M'Bochi) এবং সাভা (Sava) উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব রীতিনীতি, বিশ্বাস এবং শিল্প রয়েছে।
  • সঙ্গীত ও নৃত্য: সঙ্গীত এবং নৃত্য কঙ্গোলে সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। "সউকুস" (Soukous) বা "রুম্বা" (Rumba) কঙ্গোলে সঙ্গীত বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী ড্রাম এবং যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
  • সাহিত্য: কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য রয়েছে, বিশেষ করে ফরাসি ভাষায়।
  • শিল্প ও কারুশিল্প: কাঠের খোদাই, মুখোশ এবং মৃৎশিল্প ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের অংশ।
  • মৌখিক ঐতিহ্য: গল্প বলা এবং প্রবাদ-প্রবচনগুলি সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

শহর (Cities)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রধান শহরগুলি হলো:

  • ব্রাজাভিল (Brazzaville): কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। এটি কঙ্গো নদীর তীরে অবস্থিত এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। এটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
  • পয়েন্ট-নোয়ার (Pointe-Noire): আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর শহর এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এটি তেল শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
  • ডোয়ান্ডো (Dolisie): নিয়ারি (Niari) অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও রেলওয়ে শহর।
  • নকায়ি (Nkayi): দক্ষিণ কঙ্গোতে অবস্থিত একটি শহর, যা এর চিনি উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
  • ওউএসও (Ouesso): সাঙ্গহা (Sangha) অঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, যা এর বনজ সম্পদের জন্য পরিচিত।

 

খাদ্য (Food)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রন্ধনশৈলী প্রতিবেশী দেশগুলির মতো আফ্রিকান উপাদানগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে কাসাভা, ইয়াম, চাল এবং প্ল্যানটেন প্রধান খাদ্যশস্য।

  • ফুনজি (Fufu): কাসাভা ময়দা থেকে তৈরি একটি ঘন পোরিজ বা পেস্ট, যা বিভিন্ন স্যুপ বা স্টু-এর সাথে পরিবেশন করা হয়। এটি দেশের একটি প্রধান খাবার।
  • সাকা-সাকা (Saka-Saka): কাসাভা পাতা (বা টাপিয়োকা পাতা) থেকে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী স্টু, যা চিনাবাদাম, পাম তেল, পেঁয়াজ এবং মরিচ দিয়ে রান্না করা হয়। এটি প্রায়শই শুকনো মাছ বা মাংস দিয়ে তৈরি হয়।
  • মোয়াম্বা (Moamba): পাম বাদাম সস দিয়ে তৈরি মুরগি বা মাছের স্টু। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
  • শিম (Beans): বিভিন্ন স্টু এবং সসে ব্যবহৃত হয়।
  • গ্রিল করা মাংস ও মাছ: গবাদি পশু, ছাগল, মুরগি এবং বিভিন্ন ধরণের মাছ (যেমন তেলাপিয়া, কড) গ্রিল করে খাওয়া হয়।
  • প্ল্যানটেন (Plantain): কাঁচা কলা বিভিন্ন রূপে রান্না করে খাওয়া হয়, যেমন ভাজা বা সেদ্ধ।
  • চিকওয়াঙ্গে (Chikwanga): কাসাভা ময়দা থেকে তৈরি একটি স্টিম করা রুটি, যা পাতা দিয়ে মোড়ানো হয়।
  • পাম ওয়াইন: স্থানীয়ভাবে তৈরি এক ধরণের পানীয়।

 

বন্যপ্রাণী (Wildlife)

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র তার বিশাল জীববৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণীর জন্য পরিচিত, বিশেষ করে এর রেইনফরেস্টগুলিতে।

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী:
    • গরিলা (Gorilla): কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রেইনফরেস্টগুলি পশ্চিমের লো ল্যান্ড গরিলা (Western Lowland Gorilla) সহ বিভিন্ন প্রাইমেট প্রজাতির আবাসস্থল। ওদজালা-কোুকুয়া ন্যাশনাল পার্ক (Odzala-Kokoua National Park) গরিলা দেখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
    • বন হাতি (Forest Elephant): ঘন বনভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।
    • শিম্পাঞ্জি (Chimpanzee): বিভিন্ন প্রজাতির শিম্পাঞ্জিও এখানে দেখা যায়।
    • আফ্রিকান মহিষ (African Buffalo), অ্যান্টিলোপ (Antelope) এবং অন্যান্য ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী।
    • হিপ্পো (Hippo) ও কুমির (Crocodile): কঙ্গো নদী এবং এর উপনদীগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • পাখি: কঙ্গো প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন ধরণের পাখির আবাসস্থল, যার মধ্যে ৬০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।
  • সরীসৃপ: বিভিন্ন ধরণের সাপ (যেমন পাইথন), টিকটিকি এবং গেকো দেখা যায়।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বেশ কয়েকটি জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে, যেমন ওদজালা-কোুকুয়া ন্যাশনাল পার্ক (Odzala-Kokoua National Park) এবং নুয়াবাল-এনডোকে ন্যাশনাল পার্ক (Nouabalé-Ndoki National Park), যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পার্কগুলি পর্যটকদের জন্য গরিলা এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ করে দেয়।