বিদেশে বাংলাদেশের নতুন ৯টি কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে

বিদেশে বাংলাদেশের নতুন নয়টি কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। পরিকল্পনা অনুসারে আফগানিস্তানের কাবুল, সুদানের খার্তুম ও সিয়েরা লিয়নের ফ্রিটাউন, রুমানিয়ার বুখারেস্ট (পুনঃস্থাপন), নাইজেরিয়ার আবুজা, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্সে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপন, ভারতের চেন্নাইয়ে উপ-হাইকমিশন ও গৌহাটিতে সহকারী হাইকমিশন স্থাপন করা হবে। দেশের ভাবমূর্তি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসগুলোর প্রত্যেকটিতে ক্রমান্বয়ে প্রেস উইং করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মিশনগুলোর যেগুলো এখনো ভাড়া বাড়িতে চলছে সেগুলোর জন্য ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। জমি থাকা কিছু শহরে ইতিমধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বা চলছে। এভাবে প্রতি বছর কমপক্ষে দুটি করে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’—এর আলোকে শুধু ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টি দেশে বাংলাদেশের ৭২টি মিশন রয়েছে, যার মধ্যে ৫৪টি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস, ২টি স্থায়ী মিশন, ৮টি কনস্যুলেট জেনারেল, ৩টি ডেপুটি হাইকমিশন, দুটি সহকারী হাইকমিশন, একটি কনস্যুলেট এবং একটি ভিসা অফিস। এ ছাড়া আরও ৬৯টি দেশের সঙ্গে সমবর্তী দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে বিদেশস্থ আমাদের দূতাবাসগুলোর সাহায্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে অবৈতনিক কনসাল জেনারেল নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখা হয়।

বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১৪টি কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে ১০টি নতুন মিশন খোলা হয়েছে। মিশনগুলো হলো— এথেন্স (গ্রিস), মিলান (ইতালি), ইস্তাম্বুল (তুরস্ক), মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো), লিসবন (পর্তুগাল) ব্রাসিলিয়া (ব্রাজিল), পোর্ট লুইস (মরিশাস), কুনমিং (চীন), মুম্বাই (ভারত), এবং বৈরুত (লেবানন)। ২০১৪-১৬-এর মধ্যে ৪টি নতুন মিশন খোলা হয়েছে।

মিশনগুলো হলো— ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া), ওয়ারশ (পোল্যান্ড), ডেনমার্ক (কোপেনহেগেন) এবং আদ্দিস আবাবা (ইথিওপিয়া)। আগে থেকেই এক বা একাধিক মিশন আছে ভারত, কানাডা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রাজিল, ব্রুনাই, মিসর, ফ্রান্স, জার্মানি, ভ্যাটিকান সিটি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইতালি, জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, মিয়ানমার, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভিয়েতনাম ইত্যাদি।

সূত্র মতে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের বেশিরভাগই চলছে ভাড়া বাড়িতে। এ কারণে সহসাই পড়তে হয় নানান সংকটে। টানাপড়েনে পড়ে ক্ষুণ্ন হয় দেশের ভাবমূর্তি। মাত্র ১০টি দেশে নিজস্ব জমিতে দূতাবাস রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রতি বছর অন্তত দুটি করে স্থায়ী ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। এ জন্য বাজেটে রাখা হচ্ছে বরাদ্দ। সর্বশেষ জাপানের টোকিওতে জমি কেনার পর ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কাজ চলছে সৌদি আরবের রিয়াদে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণের। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ হচ্ছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। সব কূটনীতিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা থাকছে চ্যান্সারি ভবনেই। কাজ চলছে তুরস্কের আঙ্কারা ও মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় চ্যান্সারি নির্মাণের। জানা যায়, ১৯৭৪ সালে ভারতের কলকাতায় বর্তমান চ্যান্সারি ভবনের জমি কেনা হয়। পরে নয়াদিল্লিতেও হয় নিজস্ব দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ।

১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দূতাবাসের জন্য জমি কিনে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ১৯৮৭ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে, ১৯৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস নির্মাণের জায়গা কেনা হয়। সেখানে ভবন নির্মাণের পর ২০০০ সালে দূতাবাসের কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়। আর ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে নিজস্ব জমিতে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ করা হয়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ২০০৯ সালে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নেপাল, মিয়ানমারসহ আরও কয়েকটি দেশে দূতাবাসের জন্য জমি কেনা হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং সৌদি আরবের রিয়াদে পারস্পরিক জমি বিনিময়ের মাধ্যমে পেয়েছে বাংলাদেশ। আর ১৯৯৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দূতাবাস স্থাপনের জন্য ৩ হাজার ৫৪৯ বর্গমিটার জমি বাংলাদেশকে উপহার দেয় দেশটির সরকার। সেখানে কনস্যুলেট জেনারেল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here